May 29, 2009

বাংলাদেশে ইন্টারনেটে ব্যবসার বাধাসমুহ Internet Business in Bangladesh

আপনি বাংলাদেশে বাস করেন, চারিদিকে লোকজন কোলাহল করছে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কত সহজে লক্ষ টাকা-কোটি টাকা আয় করা যাবে, দেশ উন্নয়নশীল থেকে মধ্যম আয়ের, চাইকি ধনী দেশে পরিনত হবে। আর আপনি মনে করছেন তাইত-, এবুদ্ধি আগে পাইনি কেন ? আমার আজই ইন্টারনেট প্রয়োজন। কাল থেকেই টাকা আসতে শুরু করবে। যদি গত দশ-পনের বছরের ইতিহাস লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন এই কথাগুলো বহুবার, বহুভাবে বলা হয়েছে। কখনো ডাটা এন্ট্রি, কখনো মেডিকেল ডাটা ট্রান্সক্রিপশন, কখনো মাল্টিমিডিয়া, কখনো ওয়াপ কনভার্শন, কখনো ওয়েব পোগ্রামিং, কখনো কল সেন্টার। মুল বক্তব্য একই এবং ফলাফল একই। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথাগুলো বলে কিছু মানুষের একাউন্টে জমছে কোটি টাকা, আর যারা এই অর্থ জোগাচ্ছেন তাদের লাভের খাতা শুন্য। সময় হয়েছে, মুল সমস্যার দিকে একবার দৃষ্টি দিন।

প্রথম বাধা অবশ্যই কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের স্বল্প ব্যবহার। বলা হয় বাংলাদেশে শতকরা ১ জন মানুষ কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পায়। দক্ষিন কোরিয়ায় কম্পিউটার ব্যবহার করে শতকরা ৯০ জন। সেই ব্লগারের কথা মনে করতে পারেন নিশ্চয়ই, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা ব্লগে লিখে জেলে যেতে হয়েছে সেই পার্ক এর কথা। তার প্রতিটি পোষ্ট (ব্লগ আর্টিকেল) পড়ত কয়েক লক্ষ মানুষ। তার ওয়ের সাইট থেকে এডসেন্স বা অন্য বিজ্ঞাপন থেকে যা আয় করা সম্ভব আপনি তার হাজার ভাগের একভাগও সুযোগ পাবেন না। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট দুটোরই ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো যেমন প্রয়োজন, সেইসাথে সেগুলি যেন ঠিক কাজে ব্যবহার করা হয় সেই সচেতনতাও প্রয়োজন। বলা হয় সরকার চেষ্টা করছেন, ব্যান্ডউইডথ এর দাম কমাচ্ছেন, আইএসপিগুলোকে বারবার নির্দেশ দিয়েও তার পুরোটা ব্যবহার করাতে পারছেন না। যার অর্থ দাড়ায় দেশ চালাচ্ছেন সরকার আর সরকারকে চালাচ্ছেন এইসব ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনি কি করতে পারেন জানেন নিশ্চয়ই। আরেকবার স্মরন করিয়ে দেয়া যেতে পারে। যদি প্রোগ্রামার হন, ঘরে বসে বিশ্বের যে কোন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার তৈরী করে দিতে পারেন, ছোটখাট সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন, কারো ওয়েব সাইট তৈরী করে দিতে পারেন, গেম অথবা মুভির এনিমেশনের জন্য মডেল তৈরী করে দিতে পারেন। এর প্রতিটি কাজের মুল্য হিসেব হয় ডলারে। যদি এতটা দক্ষ নাও হন, পাড়ায় দোকান না দিয়ে ইন্টারনেটে দোকান খুলে বসতে পারেন। বিশ্বের যে কোন যায়গা থেকে ক্রেতা সেই জিনিষ কিনতে পারে। আপনি ঘরে বসে সেগুলি পাঠিয়ে দিতে পারেন। আর বিশ্বের কথা বাদই দিন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যারা বাস করেন, যাদের নির্দিষ্ট পন্য কিনতে বড় শহরে ছুটতে হয় তাদের ঘরে বসে কেনার সুযোগ করে দিতে পারেন। বর্তমান কুরিয়ার ব্যবস্থায় সেটা খুব ভালভাবেই সম্ভব। তবুও সেটা হচ্ছে না। কারন;

কারন আপনাকে বলা হয়েছে আপনি অনলাইনে লেনদেন করতে পারবেন না। এটা অপরাধ। এভাবে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়। না বলে উপায় নেই, যারা এই নীতি করেছেন তাদের নামেই শতশত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্কে যখন ট্যাক্সির ভাড়া ক্রেডিট কার্ডে দেয়া বাধ্যতামুলক করা হয়েছে সেখানে একটি দেশে আইন করে ক্রেডিট কার্ডে শতরকম বাধা তৈরী গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। সমস্যা থাকবেই, তার অর্থ এই না যে মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলতে হবে। অন্য দেশ যদি এর সমাধান করতে পারে তাহলে সেই উদাহরনের দিকেই দৃষ্টি দেয়া উচিত।

আরেকটি কারন বলার আগে সাবধান করে দেয়া ভাল, যিনি এই লেখা পড়ছেন তারও আতে ঘা লাগতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের কারিগরী জ্ঞান, বিদেশী ভাষা জ্ঞান, বিদেশ সম্পর্কে জ্ঞান নিতান্তই কম, অনেক ক্ষেত্রে বিকৃত। সকলেই সব বিষয়ে পারদর্শী, কাজের দায়িত্ব দিলে কিছুই পারেন না। কারন কি শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা, নাকি অর্থনৈতিক দুরবস্থা, নাকি রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাকি ভাল-মন্দ এবং সৎ-অসৎএর বৈষম্য সে বিশ্লেষন যারা করার তারা করবেন। তবে এটা বাস্তবতা এবং এই অবস্থার উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন। অনেক বিশেষজ্ঞ একসময় ডিজিটাল ডিভাইড নিয়ে বুলি আওড়েছেন এখনও আওড়াচ্ছেন। যারা বাস্তবে কখনো দুলাইন কোড লেখেননি, লেখার যোগ্যতা রাখেন না, প্রোগ্রামারের সমস্যা কি জানার জন্য প্রোগ্রামারের সাথে কথা বলেননি তারা যদি নীতিনির্ধারনের দায়িত্বে থাকেন সেখানে অন্ধকার ছাড়া কিছু থাকে না। তাদের কথা তাদের বলতে দিন। যদি কোন বিষয়ে সত্যিই পারদর্শী হতে চান তাহলে সাধনা করুন। একটামাত্র বিষয় বেছে নিয়ে সেটাতেই লেগে থাকুন। দৌড়াতে পারি না কিন্তু প্রথম পুরস্কার আমার সময় ফুরনোর আগেই এই মনোভাব ত্যাগ করুন।

বিষয়কে আর দীর্ঘ না করে আপনি কি করতে পারেন সেকথা বলে শেষ করা যাক। আপনি গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। গনতন্ত্রের রীতি হচ্ছে জনগনের সুবিধা বিবেচনা করে সবকিছু নির্ধারন করা হবে। সেটা যদি না হয় তাহলে আপনার কর্তব্য আপনার কি প্রয়োজন সেটা জানানো। জনগন বাধ্য না করলে সরকার কখনোই নিজের সুবিধা ছেড়ে দেবে না। এবং জনগন মুর্খ থাকলেই তাদের লাভ। কাজেই আপনার প্রয়োজনের কথা পরিচিতজনকে বলুন, তাকে বলুন আরেকজনকে বলতে। সারা দেশে সকলের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে দিন।

যত দ্রুত বৃক্ষরোপন করবেন তত দ্রুত ফল পাবেন।

1 comment:

  1. সম্পূর্ন একমত।

    ReplyDelete